• রংপুর
  • সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১

মলিভানের ভাঙ্গা চালায় জীবন-যাপন : এগিয়ে এলেন মানবিক মানুষ জন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অবশেষে মাথা গুজার, দিনশেষে রাতে আশ্রয় নেয়ার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা হতে যাচ্ছে উলিপুর ধরনীবাড়ীর মলিভান বেগমের। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক আবু জাফর সোহেল রানার আহবানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছেন ইউনিভার্সাল এমিটি নামক স্বেচ্ছাসেবি সামাজিক সংগঠন সহ মানবিক মানুষ ও গনমাধ্যকর্মীরাও।

কুড়িগ্রামের উলিপুরে মলিভানকে অনেকে সহায়তার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা পুরনে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। শুধু আশার বাণী শুনিয়ে সবাই চলে গিয়ে আর খোঁজ নেননা মলিভানের। টিনের একটি ভাঙা চালা, নেই কোন বেড়া সেখানেই বসবাস করেন তিনি। খেয়ে না খেয়ে দিন পাড় করলেও দেখার যেন কেউ নেই। বয়সের ভারে চলতে পারেন না,ঝড় বৃষ্টিতে ব্যাপক বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাকে। এ যেন সীমাহীন কষ্ট এক বৃদ্ধা মায়ের। তার এ কষ্টের কথা লকডাউনের সময় থেকে এপর্যন্ত স্থানীয় সকল গণমাধ্যমকর্মী মলিভান বেগমের দূর্দশার কথা ধারাবাহিক প্রকাশ করে গেলেও কারও মন গলেনি, সময় হয়নি এই বিধবা নিঃসন্তান অসহায় চাল চুলাহীন মলিভানের প্রতি সুদৃষ্টি দেয়ার।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪.৩০ মিনিটে আবু জাফর সোহেল রানা সহ স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীদের সাথে সামাজিক সংগঠন ইউনিভার্সাল এমিটির প্রতিনিধি মোঃ মেহেদি হাসান দূর্জয় ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের মধুপুর ডাক্তার পাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের স্ত্রী অসহায় বৃদ্ধা মলিভান বেগমের ঝুপড়িতে গিয়ে পৌছান। সেখানে পুর্বথেকেই উপস্থিত ছিলেন ঐ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওবায়দুর রহমান সহ ঘর তৈরি করা মিস্ত্রী ও স্থানীয় জনগন। মেম্বারের সহযোগিতায় মলিভানের নিজস্ব জমি চিহৃিত করে মিস্ত্রীদের দারা মাপজোক করে ১১ হাত দোচালা একটি ঘরের সম্ভাব্য বাজেট নিরুপন করা হয়।

ইউনিভার্সাল এমিটির মেহেদী হাসান দূর্জয় জানান, এ বিষয়ে তাদের কোন পুর্বপ্রস্তুতি না থাকলেও মলিভান বেগমের করুন জীর্নদশা উপলব্ধি করে তারা প্রাথমিক বরাদ্দ ১৫ হাজার টাকা ধার্য্য করলেও বাস্তবে এ ব্যয় অনেক বেশী। তারা সংগঠনের সদস্যদের সাথে আলোচনাকরে বরাদ্দ বারানোর ব্যবস্থা করবে। আগামী সোমবার নাগাদ তারা ঘরের কাজে হাত দিয়ে শুক্রবারের মধ্যে ঘরের কাজ সম্পন্ন করে দিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ওবায়দুর রহমান অসহায় মলিভান বেগমের পাশে দারানো মানবিক মানুষদের ধন্যবাদ জানান। ঘরের মাটি কাটা, প্রয়োজনীয় বাশ ও ঘর তৈরির মিস্ত্রী খরচ তিনি ব্যক্তিগত ভাবে দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

যার উদ্যোগে ও আহবানে আজ ঘরহীন মলিভানের ঘর তৈরি বাস্তবে রুপ নিচ্ছে তার বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি বলেন, মফস্বল কিংবা জাতীয় পর্যায়ে যে মাধ্যমেই হোক একজন সাংবাদিক তার প্রতিবেদনে অসহায়, নিপিড়িত দূর্দশাগ্রস্ত মানুষের সমস্যা ফুটিয়ে তুলবেন এটাই তার কাজ। সেই রিপোর্ট ও প্রতিবেদন নজরে নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা তা আমলে নিয়ে সমাধান করলে ঐ সাংবাদিকের ভালো লাগা তৈরি হয়, এর বেশী কিছু না। ধরনীবাড়ির মলিভান সহ ডজন ডজন অসহায় মানুষদের নিয়ে জেলার দুই ডজন সংবাদকর্মী গত কয়েকমাসে ধারাবাহিক নিউজ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কাজের কাজ সব হতাশাজনক ঐ সকল গরীব অসহায়দের জন্য। তার মধ্যে ধরনীবাড়ির মলিভান বেগম অগ্রগন্য। ২৫ টার উপরে নিউজ প্রকাশ পেলেও কেউ এগিয়ে আসেনি, যা দুঃখজনক। গোটা উপজেলা নয় গোটা জেলায় যদি সার্ভে করানো হয় তাহলে মলিভান বেগমের নাম সামাজিক সুরক্ষা ও সরকারি ঘর বরাদ্দের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করবে। অথচ তাদের ভাগ্যে জুটছে না এসকল বরাদ্দ, যেখানে এদেরই হক সবার থেকে অগ্রভাগে । তাই মলিভান বেগমের দূর্দশা ও প্রয়োজন এবং মলিভান বেগমকে নিয়ে রিপোর্ট করা সকল সাংবাদিকের কলমের কালির প্রাপ্য সম্মান দিতেই গত কয়েকদিন আগে এ সংক্রান্ত একটি ফেসবুক স্টাটাস দেই। নিজস্ব উদ্যোগে এখন সহযোগি হচ্ছে আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী কিছু মানুষ । মলিভানের ঘরের কাজ সম্পুর্ন করে যেদিন তাকে ঘড়ে উঠানো হবে সেদিনই সম্মানিত সহযোগিদের পরিচয় দেয়া হবে বলে জানান বিএমএসএফ জেলা সভাপতি ও সমাজকর্মী আবু জাফর সোহেল রানা।

উল্লেখ্য, উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মধুপুর ডাক্তার পাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের স্ত্রী অসহায় বৃদ্ধা মলিভান বেওয়া।১৯৭১ সালে স্বামী আবুল কাশেম মারা গেলে মা বাবার আশ্রয়ে চলে আসে। তাদের মৃত্যুর পর ভাইদের বাড়িতে, অন্য মানুষদের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন।নিঃসন্তান এ বৃদ্ধা মহিলার থাকার স্থানটুকুও নড়ভর,সীমাহীন কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছেন মলিভান। বেড়াবিহীন ভাঙা চালায় অতি কষ্টে জীবন-যাপন করছেন মলিভান।তার চালাটি মেরামত করতে সমাজের বিত্তবান, মানবিক মানুষ ও ইউপি, উপজেলা প্রশাসন বরাবরে অনুরোধ জানিয়েছিলেন স্থানীয়রা।

এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরিতে ইতিপুর্বে প্রতিবেদক ইউপি পরিষদ চেয়ারম্যান ও উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারেরও দৃষ্টি আকর্ষন করার কথা জানিয়েছেন ।

ধরনীবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ফুলু বলেছিলেন, মলিভানের বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি।তাকে সহযোগীতা করেছিলাম।এখনতো তেমন কিছু নেই, দেখি সামনে যা আসবে দেওয়া হবে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেছিলেন, মলিভানের খোঁজখবর নিয়ে তাকে সহযোগীতা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ই-মেইল : news.ajkersamaj@gmail.com
এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020
Desing & Developed by Moksadul Momin