• রংপুর
  • রবিবার, ১৬ মে, ২০২১

ফুলবাড়ীতে হামলা সাথে মামলা তার উপর গুমের হুমকি ভয়ে বাড়ী ছাড়া এক কিশোরী সহ পরিবার


প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০

প্রতিবেদন

আবু জাফর সোহেল রানা কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির ইন্ধনে দূর্বৃত্তকারীদের হামলা ও দূর্বৃত্তকারীদের আড়াল করতে তাদের অভিভাবকদের  থানায় দায়ের করা মামলায় এবং প্রভাবশালী উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের হুমকির  ভয়ে বাড়ী ছাড়া ৮ম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী সহ তার  ষাটোর্ধ বৃদ্ধা দাদী ফজিলা বেগম ও দাদা সামাদ (৭০)।  কিশোরীর বৃদ্ধ দাদা  সামাদের বাড়ী ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবশ গ্রামে।  
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০-১০-২০২০ইং  স্কুল ছাত্রী কে  জোড়পুর্বক উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও স্কুল পরুয়া নাতনী কে উদ্ধারে প্রতিপক্ষীয় হামলার ঘটনায় ফুলবাড়ি থানায় মামলা করেন দাদী ফজিলা বেগম। মামলা নং- ০৩,তাং- ০২-১১-২০২০ ইং। বিপরীতে বিবাদী পক্ষ দুই দিন পর  একই তারিখ একই ঘটনাস্থল ও সময় উল্লেখপূর্বক একটি  কাউন্টার মামলা করে। ফুলবাড়ি থানার মামলা নং- ০৭,তাং- ০৪-১১-২০২০ইং।
গোপন সূত্রে জানা যায়,  অভিযুক্ত প্রভাবশালী মহল ঘটনা কে আড়াল ও মামলার কার্যক্রমকে  বাধাগ্রস্ত করতে ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে মলমূত্রত্যাগ করার মত  অযৌক্তিক অভিযোগ কে আই ওয়াশ হুমকি  হিসেবে উপস্থাপন করে ফুলবাড়ি থানায় ঘটনার ১৪ দিন পর এবং বাদী ফজিলা বেগমের মামলা গ্রহনের ২ দিন পর কাউন্টার মামলা করে। পাশাপাশি ফজিলা বেগম থানায় মামলা দায়ের করার দুঃসাহসে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে  এজাহার নামীয় আসামী দুলু মেম্বার সহ অপরাপর স্থানীয় আসামী ও তাদের অভিভাবক এবং  আত্মীয়স্বজন। কুড়িগ্রামের কাঠালবাড়ী থেকে বহু বছর পুর্বে উঠে আসা ফজিলারা  ফুলবাড়ির বড়ভিটার এই গ্রামে স্বজন হীন তিন সদস্যের অসহায় এক পরিবার।নাতনী  কিশোরী ফারজানা কে অপহরন ধর্ষন খুন ও গুমের মত  মারাত্মক হুমকি প্রদান করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়ি ছারা করার অভিযোগও  উঠেছে আসামী পক্ষের বিরুদ্ধে । 

সরেজমিনে দেখা গেছে সামাদের বাড়ীর গেটে ঝুলছে তালা। তালাবন্ধ বাড়ীর গেটটিও যে আক্রোশের শিকার তা নিয়ে ঐ এলাকার কেউ মুখ না খুললেও ভুক্তভোগী সামাদ ও তার স্ত্রী ফজিলা বেগমের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে ধারনার চেয়েও নির্মম ও সমাজপতিদের  নিষ্ঠুরতার এক বিকৃতরূপ জানা যায়। সভ্যসমাজ ব্যাবস্থায় অসভ্যতা যে গ্রামের সমাজপতি ও জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ মদদেই নিজ স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের  উদ্দেশ্যেই  ঘটে তার উদাহরন এখন  সীমান্তবর্তী উপজেলা ফুলবাড়ির বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবশ গ্রামের এক প্রত্যন্ত অঞ্চল শয়তানের মোড়।
বিবাদীদের  দায়ের করা একদিকে মামলা আর একদিকে হামলার হুমকি তে বাড়ী ছারা পরিবারটির সাথে সরাসরি কথা বলতে চাইলে ভীতসন্ত্রস্ত জমিলা ও সামাদ রাজী হন। অবশেষে গতকাল রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকাল ৩ টার দিকে তাদের দেখা মেলে কুড়িগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে। তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় তারা বিজ্ঞ আদালতে জামিন পেয়েছেন। ফারজানার বয়স ১৮ এর অনেক কম  হওয়ায় আইনজীবী তাকে কোর্টে তুলেন নি। বৃদ্ধ সামাদ ও তার স্ত্রী এবং নাতনীর সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে জানা গেলো তারা গতরাত থেকে অভুক্ত রয়েছেন। হোটেলের পুরি ও বেকারীর রুটি খেয়ে আছেন। হাতে যৎসামান্য টাকা থাকলেও আদালতে জামিন হওয়ার খরচ কম পরার ভয়ে হোটেলে বসে ভাতটুকুও খাওয়ার সুযোগ হয় নাই। 
বাড়ির মালিক ও স্কুল ছাত্রী ফারজানার দাদা আব্দুস সামাদ কথা বলতে গিয়ে বারে বারে কেঁদে উঠছিলেন। তিনি যে কারনে ডুকরে কাঁদছিলেন তা  একজন পিতার মত দাদার আড়শ কাপানো কান্নার উপযুক্ত কারনই বটে। গ্রামের কিছু বখাটে ওখানকার কমিউনিটি প্রধান দের ছত্রছায়ায়, মেম্বার এমনকি বড়ভিটা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ইন্ধনে  দাদা সামাদের  প্রতি অভিযোগ আনা হয়েছে তার নাতনীর সাথে তার অনৈতিক মেলামেশা আছে। এ অভিযোগ কে সামনে রেখে গত সাতমাস থেকে পরিবারটি কে পরিকল্পিতভাবে মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাদের সাভাবিক জীবন যাপন ও বাহিরে চলাফেরার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হচ্ছে, যা নির্মম অমানবিক। 
অন্যদিকে একই ঘটনায় গত শুক্রবার ( ৬ নভেম্বর) উপজেলার খড়িবাড়ি- বড়ভিটা সড়কের নওদাবশ বাজারে মামলার  বাদী ফজিলা বেগমের স্বামী  ৭০ বছরের বৃদ্ধ সামাদ কে দূস্কৃতিকারী সন্ত্রাসী  ও ফুল বাড়ি থানার এস আই প্রভাত এলাকার এক মেম্বার সহ যুবকদ্বয় দের নামে মিথ্যা মামলা দেয়ার প্রতিবাদে সকাল ১১ টা থেকে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত মানববন্ধন করেছে ঐ এলাকার শতাধিক মহিলা পুরুষ। ফুলবাড়ি থানার এস আই প্রভাত জানান, মামলা গ্রহনের এখতিয়ার আমার নাই। মামলার তদন্ত কার্যক্রমে গেলে আমাকে কিছু লোকজনের উপস্থিতিতে এলোমেলো কথা বলে  তিনি ( দুলু মেম্বার) কাজের বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করেন। আমার সন্দেহ হয় তিনি মামলার এজাহারভূক্ত আসামী।আমি তার নাম ও পিতার নাম জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং এলাকা ত্যাগ করেন । এজাহারে মিজানুর রহমান দুলু তিনিই কিনা তা নিশ্চিত ছিলাম না। 
বড়ভিটা  ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মিজানুর রহমান দুলু মুঠোফোনে প্রতিবেদক কে বলেন,   তিনি নিজেকে ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার দুলু পরিচয় দেয়ার পরও আমার পিতার নাম জানতে চাইবেন কেন এবং উনি আমাকে সাথে থানায় যেতে বলেছিলেন। এ কারনে তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে মানববন্ধন করেছে জনগন। মামলার প্রক্রিয়া কে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে এবং নিজেকে ঘটনার আরালে রাখতে এলাকার নিজস্ব লোকজন ও অন্যান্য আসামীর পরিবারের সদস্যদের একজোট করে পুলিশ কে চাপে রাখতেই মানববন্ধনের কৌশল নিয়েছে স্থানীয় মেম্বার মিজানুর রহমান দুলু এমন মতামত ব্যাক্ত করেছেন ঐ এলাকার সচেতন জনগন। স্থানীয় সংবাদকর্মীরাও এমনটাই ধারনা করছেন। 
স্থানীয়দের মতে, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তির রোষানলে পরে  আতঙ্কে দিনকাটছে পরিবারটির।  হামলা -মামলায় বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়াডের সদস্য মিজানুর রহমান দুলুর সরাসরি মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। । ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দুলুর সাথে বিবাদের বিবরণে সামাদ জানান বছর খানেক আগে তার নাতনী ফারজানাকে মেম্বার ফুসলিয়ে তার বাড়ীতে থাকতে বলেন। মোবাইলে নাতনীর সাথে গোপনে কথা বলতো। এগুলো নিয়ে মনোমালিন্য হলেও তখন বুঝতে পারেন নাই। সামাদের সাথে এক পক্ষের   মামলা মীমাংসা করে দেয়ার কথা বলে ফারজানার পরিবারের কাছ থেকে সুকৌশলে হাতিয়ে নেন বিশ হাজার টাকা। পরে অভিযুক্তদের নিয়ে আয়োজন করেন সালিশ বৈঠকের। বৈঠকে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দোষীদের ষাট হাজার টাকা জরিমানা করেন তিনি। ওই সময় মিজানুর বলেছিলেন মামলা তুলতে দশ হাজার টাকা খরচ হবে আর বাকি পঞ্চাশ হাজার টাকা ফারজানার পরিবারকে দেয়া হবে। কিন্তু অদ্যাবধি তিনি একটি টাকাও ফারজানার পরিবারের হাতে দেন নাই। বিভিন্ন অজুহাতে তিনি সমুদয় টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করে আসছেন। বারবার তাকে টাকার কথা বলায় তিনি সামাদের উপড় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আর টাকা চাওয়ায় শুরু হয় শত্রুতা। আর তখন থেকেই তিনি ফন্দি আঁটেন সামাদকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার। যোগসাজশ করেন স্থানীয় কিছু বখাটে ও জুয়াড়িদের সাথে। তাদের লেলিয়ে দিয়ে অহেতুক বিবাদ সৃষ্টি করে একাধিকবার চালান সামাদের পরিবার ও বাড়ীঘরে হামলা। সামাদের বাড়ী সংলগ্ন রাস্তায় মিজানুরের মদদেই নিয়মিত বসতে থাকে  তাসের মাধ্যমে জুয়ার আসর। জুয়াড়িরা সামাদের পরিবারের উদ্দেশ্যে করতে থাকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য আর অশালীন গালিগালাজ।তাদের এমন অসভ্যতার প্রতিবাদ করায় জুয়াড়িরা সামাদ ও তার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে বাড়ী ভাংচুর করলে ফারজানা ৯৯৯ ফোন করে পুলিশের সাহায্য চায়। ওই দিনই ঘটনার তদন্তে যায় ফুলবাড়ী থানা পুলিশ। ঘটনাস্থলে হাজির হন নাটের গুরু মিজানুর। তিনি বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে পুলিশকে চলে যাবার অনুরোধ করেন। ঘটনার প্রায় সাত মাস অতিবাহিত হলেও এব্যাপারে  তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন নি। ফলে বেড়ে যায় জুয়াড়িদের স্পর্ধা। গত ২০অক্টোবর দুষ্কৃতকারীরা পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালায় সামাদের পরিবারের উপড়।হামলায় সামাদ তার নাতনী ফারজানা ও স্ত্রী ফজিলা গুরুতর আহত হয়ে ফুলবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি হয়। গত ২ নভেম্বর হামলার সাথে জরিতদের বিচারের দাবিতে ফুলবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন সামাদের স্ত্রী ফজিলা বেগম । মামলা দায়ের করায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মিজানুরসহ দুষ্কৃতিকারীরা। তারা নিজেদের অপরাধ আড়াল ও সামাদের পরিবারকে হয়রানি করতে থানায় পাল্টা মামলা দায়ের করেন। এমনকি নিজেদের লোকজনদের দিয়ে মানববন্ধন করান। 
বড়ভিটা বালিকা স্কুলের  ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী ফারজানা আক্তার  আসামীদের গ্রেফতারের আবেদন জানিয়ে বলেন, তাদের হুমকি তে আমরা বাড়ী ফিরতে পারছি না। ফারজানা পড়াশুনা সহ সাভাবিক চলাফেরা ও বাড়ীতে নিরাপদে বসবাস করতে চান।  তিনি অপরাধীদের থেকে নিরাপদে থাকতে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা জেলা পুলিশের মানবিক এসপি মোহাম্মদ মহিবুল ইসলামের  হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 
ওয়ার্ড মেম্বার মিজানুর রহমান দুলু অর্থ জমারাখার বিষয়টি স্মীকার করে বলেন, গচ্ছিত অর্থ আমার কাছে নেই এখন তা বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খয়বর আলীর কাছে জমা আছে। মীমাংসার টাকা আটকানোর বিষয়ে বলেম, এলাকার একটা সেন্টিমেন্ট আছে তার বাহিরে যাওয়ার সুযোগ নাই বলে চেয়ারম্যান সাহেবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এলাকাবাসী বলছে ও গ্রাম ছারা হলে তবেই টাকা পাবে। তাছারা বাকি সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন।
গতকাল বড়ভিটা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খয়বর সাহেবকে বিকাল ৪.৩০ মিনিট থেকে বেশ কয়েকবার ফোনে চেষ্টা করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি। 
ফারজানা আক্তারের পরিবার বাড়ীতে থাকবেন। মামলায় অভিযুক্ত দের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া  অব্যাহত রয়েছে বলে জানান। ফুলবাড়ি থানার অফিসারইনচার্জ রাজীব কুমার রায়।  উল্লখ্য, স্থানীয় সচেতন মহলের  দায়ী সকলকে সনাক্ত করা হোক।

বিচারের আওতায় আনা হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ই-মেইল : news.ajkersamaj@gmail.com
এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020
Desing & Developed by Moksadul Momin