• রংপুর
  • রবিবার, ১৬ মে, ২০২১

সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারে মধ্য নভেম্বরে


প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০

নভেম্বরে ১৫ তারিখ থেকে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তবে এটা সব শিক্ষার্থীর জন্য নয়।  শুধু এসএসসি ও এইচএসসি’র শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আগামী ১৪ই নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্তও জানান শিক্ষামন্ত্রী। 

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। বিশেষ করে আগামীতে যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেবে তাদের কথা বিবেচনায় রেখে সীমিত আকারে প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে।’

সীমিত পরিসরে ক্লাস শুরুর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা বলছি, এই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য, যারা আগামী বছর পরীক্ষা দেবে। এ বছর যারা এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল তাদের সব প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু আগামী বছর যারা পরীক্ষা দেবে তাদের তো পড়াশোনায় ব্যাঘাত হয়েছে। তাদের জন্যই সীমিত পরিসরে হলেও নির্ধারিত পরীক্ষার আগে যদি সময় দেওয়া যায় তাহলে হয়তো তারা সিলেবাস শেষ করতে পারবে। ’ 

তিনি বলেন, ‘সীমিত পরিসরে তাদের ক্লাসরুমে নিয়ে এসে তাদের যেসব সমস্যা আছে সেটি কীভাবে সমাধান করা যায় সেটি দেখছি। অনেকে বলছে স্কুলের আসার বিষয়টাই হয়তো ভুলে যাচ্ছে তারা। তবে সব কিছুই নির্ভর করবে করোনা পরিস্থিতির ওপর।’

সামনের বছরের এসএসসি পরীক্ষা পেছানো হতে পারে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে কিনা সেটি দেখবো। যদি প্রয়োজন হয় তখন পিছিয়ে যেতে পারে। সেটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। আমরা এখনই বলতে পারছি না পরীক্ষা পেছাবো কিনা। সেটি সময় হলেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।’ 

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘করোনা শুরুর পর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি চলছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার অনুশীলন করতে হবে। যেহেতু একটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সুনির্দিষ্ট। পরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসার অনুশীলন শুরু করতে পারে তারা। বিদ্যালয়গুলোতে যাতে এখন থেকেই তা শুরু হয়, সেটি বিবেচনার প্রয়োজন আছে।’

এসময় সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। এবার তা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হলো।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যেও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে টিভিতে শ্রেণি পাঠদান সম্প্রচার করা হচ্ছে। আর উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষাস্তরে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে।

করোনার কারণে এ বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা/মূল্যায়নের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। নভেম্বরে এসব পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।

এছাড়া গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে স্থগিত করা হয়। তবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বুধবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চার সপ্তাহ সময় দিয়ে পরীক্ষার সময় জানানো হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগামী সোম-মঙ্গলবার জানিয়ে দেওয়া হবে কবে নাগাদ এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


© All rights reserved © 2020
Desing & Developed by Moksadul Momin